আয়াতুল্লাহ আলী খামেনেই, যিনি ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মগুরু এবং শক্তিশালী নেতা ছিলেন, ৮৬ বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেছেন। খামেনেইর মৃত্যুর খবরে মধ্যপ্রাচ্যের আকাশে যুদ্ধের ক’লা ডাৱৰৰ মতো উত্তেজনা বৃদ্ধি পেয়েছে। ইজরাইল এবং ইরানের মধ্যে চলমান সামরিক উত্তেজনা এবং আক্ৰমণ-প্ৰত্যাক্ৰমণের প্রেক্ষাপটে এই মৃত্যু সমগ্র বিশ্বে চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে। দীর্ঘ সময় ধরে ইরানের ধর্মীয় ও রাজনৈতিক ক্ষমতা খামেনেইর হাতে ছিল, এবং তার অকালে চলে যাওয়ায় দেশটির ভবিষ্যত এখন এক অনিশ্চিত পথের দিকে গতি পাচ্ছে।
১৯৮৯ সালে আয়াতুল্লাহ রুহোল্লাহ খোমেনেইর উত্তরাধিকাৰী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন খামেনেই। তার নেতৃত্বে ইরান পশ্চিমা দেশগুলির বিরুদ্ধে আপোষহীন রাষ্ট্রনীতির ধারায় ইজরাইলের সাথে সরাসরি যুদ্ধে লিপ্ত হয়েছিল। সাম্প্রতিক সময়ে ইজরাইলের বিমান আক্রমণ এবং মিসাইল বর্ষণে ইরানের সামরিক গাঠনিক ভেঙে পড়ার পরে খামেনেইর মৃত্যু দেশটির প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে একটি বড় চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন করেছে।
খামেনেইর মৃত্যুর পর, ইরানে জাতীয় শোক ঘোষণা করা হয়েছে এবং সরকারের প্রতিটি দফতরে পতাকা অর্ধনমিত রাখা হয়েছে। সরকারের সংবাদ মাধ্যমে ধর্মগুরুর মৃত্যুকে ‘এক যুগের অন্ত’ হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে। তেহরানের রাস্তায় হাজার হাজার লোক খামেনেইকে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে সমবেত হয়েছে।
এদিকে, খামেনেইর মৃত্যুর পর ইরানের পরবর্তী সর্বোচ্চ নেতা ঠি কহবে, তা নিয়ে তীব্র আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ক্ষমতার পরিবর্তন ইরানের অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতায় প্রভাব ফেলতে পারে। অন্যদিকে, ইজরাইলের সাথে চলমান যুদ্ধের মধ্যে ইরানের নতুন নেতৃত্ব কী ধরনের সামরিক কৌশল গ্রহণ করবে, তা এখন বিশ্বজুড়ে চিন্তার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। বর্তমানে ইরানের সামরিক বাহিনী হাই-এলাৰ্ট জারি করেছে এবং যেকোনো পরিস্থিতির মোকাবেলায় প্রস্তুত থাকতে বলেছে।
